ওয়েব সিরিজ- সিন্ডিকেট
পরিচালক- শিহাব শাহীন
অভিনয়ে - আফরান নিশো, নাজিফা তুষি, তাসনিয়া ফারিণ, নাসিরউদ্দিন খান, রাশেদ মামুন অপু
আমরা প্রেম দেখেছি, প্রেমের অনেক গল্প দেখেছি। দেখছি প্রেমিক প্রেমিকাকে হন্যে হয়ে খুঁজতে। কিন্তু প্রেমিকার মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনে এক প্রেমিক বুকে এক পাহাড় সমান কষ্ট নিয়ে, এতো বড় রোগ নিয়ে ছুটছে, সমস্যায় জড়াচ্ছেন, বিপদে ফেলছেন নিজেকে,পরিবারকে। তার দিবস আসলেই বিবশ হয়ে কাটে জিসার চোখে চেয়ে সেটা হোক কল্পনা কিংবা সামনে বসে। এই প্রেমিক আসলেই কিছুই জানে না, শুধু জানে সেই একটা কবিতা। যে কবিতা প্রেমিকার হৃদয়ে তুলে ঝড় তাইতো জীবনের কষ্টের মুহুর্তেও সে প্রেমিকের সেই কবিতায় একটুখানি সুখ খুঁজে নিতে চায়, সব ভুলে সেই কবিতার ছন্দে তাকে নিয়ে হারিয়ে যেতে চায়। কিন্তু এই সমাজের প্রতি কোণায় যে সিন্ডিকেটে ভরে গেছে, পাপে পা দিলে সেই পা পিছলে গিয়ে মানুষকে নিয়ে যায় সেটার গভীরে সেখান থেকে ফিরতে পারা যায়! আর প্রেম! অনেক কিছুর বিনিময়ে মানুষ সেই স্বাভাবিক জীবনটা ফিরে পেতে চায়, চায় তাকে নিয়ে সুখের সংসার করতে।
"কাজল চোখের মেয়ে
আমার দিবস কাটে বিবশ হয়ে
তোমার চোখে চেয়ে "
গল্পটা ভালবাসার,সেই ভালবাসার যে ভালবাসায় প্রেমিক শুধু প্রেমিকা জিসাকে চেনে আর জানে একটা শুধু একটা কবিতা, সেই প্রেমেই জিসা মজেছে, সহজ সরল অ্যাসপারগার সিনড্রোম রোগে আক্রান্ত ছেলেটার ভালবাসায় হারিয়ে গিয়েছিল। আবার একদিকে গল্পটা ঘৃণার আর সিন্ডিকেটের পিছনের যে রহস্য তা খুঁজার আবার সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে যদি গল্প এক কথায় প্রকাশ করতে হয় তাহলে শুধু দুই শব্দ 'ভরপুর ইমোশনাল'। গল্প নিয়ে বেশিকিছু বলার প্রয়োজন বোধ করছি না কারণ যারা এটার টিজার, ট্রেইলার দেখেছেন তারা এটা সম্পর্কে জানেন আর ট্রেইলারের বেশি বলতে গেলেই ধরা। তাই সেদিকে না আগাইয়া বরং এই কাজের কে কতটুকু রঙ ছড়িয়েছেন তাই বলি।
অভিনয়ের কথা বলতে গেলে এই সিরিজের যেখানে যতটুকু যা আছে সব কিছু ছাপিয়েই বলতে হয় এটা অভিনয়ের সিরিজ, 'অভিনয় দেখেছি অভিনয়, আফরান নিশোর অভিনয়'। তার চরিত্রটা ইমোশন দিয়ে মোড়ানো, এই চরিত্রের ৬০% জায়গা জুড়েই তার চোখে টলটল করছে কখনো আবার গড়িয়ে পড়ছে, নরম কন্ঠে ইমোশনাল সংলাপ দিচ্ছে। এই চরিত্রে তিনি নিজেকে আরেকবার আবিস্কার করেছেন, বেঞ্চমার্ক স্থাপন করেছেন অভিনয়ে এই আদনান চরিত্রে। আদনান এমন এক চরিত্র যাকে ভালবাসতেই হবে, এমন এক প্রেমিক তাকে সব মেয়েরা চায়।
